ডেইরি খামার করে সফল নাজমা বেগম

ডেইরি খামার করে সফল নাজমা বেগম
লেখাপড়া করে চাকরি না পেয়ে অবশেষে ডেইরি খামারই আর্থিক সচ্ছলতা এনে দিয়েছে নাজমা বেগমকে। তার খামারটি এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রংপুরের পীরগঞ্জের এই উদ্যমী নারীর ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া শেষে শিক্ষকতা করবেন। সেভাবেই চলছিল লেখাপড়া। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল পাস করার পর অনেক ঘোরাঘুরি করেও চাকরি পাননি। সে কারণে আয়বৃদ্ধিমূলক কিছু করার ইচ্ছা থেকেই বাড়িতেই ডেইরি খামার শুরু করেন।

নাজমা জানান, এখন তার খামারে সাড়ে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ৫টি গাভীসহ ফ্রিজেন ও সাইওয়ান জাতের ৬টি গাভী ও ৩টি বাছুর রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাচ্চা দেবে সেগুলো। এখনও গড়ে প্রতিদিন এক হাজার ৪০০ টাকার দুধ বিক্রি হয় তার খামার থেকে। খামারের যাবতীয় খরচ বাদে প্রতি মাসে গড়ে ১৫-২০ হাজার টাকা লাভ থাকে। কিছুদিন আগে ৪টি বাছুর বিক্রি করেছেন ৬৪ হাজার টাকায়।

২০০৫ সালে একই উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের ছফের উদ্দিনের ছেলে কেরামত আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় নাজমার। বিয়ের পর নাজমাকে পড়াশুনা অব্যাহত রাখার অনুপ্রেরণা জোগান স্বামী। সংসারের কাজ করেও আত্মপ্রত্যয়ী নাজমা পড়াশুনা চালিয়ে যান। ওই বছরে আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এভাবেই ২০০৭ সালে ফাজিল ও ২০০৯ সালে ফিকাহ শাস্ত্রে প্রথম বিভাগে কামিল পাস করার পর চাকরির জন্য অনেক ঘুরেছেন। কিন্তু চাকরি মেলেনি। অবশেষে অর্থ উপার্জনের এই বিকল্প চিন্তা বের করেন তিনি।

দুই সন্তানের খাওয়ার জন্য গাভীর দুধের ওপর নির্ভরশীল হতে হতো নাজমাকে। সেই জায়গা থেকেই তাদের বাড়িতে ডেইরি খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়। এ জন্য বিভিন্ন স্থানে ডেইরি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন তিনি। পর্যায়ক্রমে প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো শেষ করেন।

নাজমা জানান, ২০০৮ সালে প্রথমে ৭২ হাজার টাকায় একটি বাছুরসহ ফ্রিজিয়ান গাভী কেনেন। এক মাস পর বাছুরসহ ওই গাভীটি একই দামে বিক্রি করে আবারও ৫২ হাজার টাকায় একই জাতের একটি গাভী কেনেন। একদিন পরই গাভীটি বাচ্চা দেয়। আট মাসে ওই গাভী থেকে ৮৮ হাজার টাকার দুধ বিক্রি করেন। এঁড়ে বাছুরটি বিক্রি করেন ১৬ হাজার টাকায়। এই টাকা দিয়ে আরও একটি গাভী কেনেন। এভাবেই অল্প সময়ের মধ্যে তার ডেইরি খামার গড়ে ওঠে।

ডেইরি খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন নাজমা দম্পতি। এক সময় পরিবারে নানা অভাব-অনটন থাকলেও তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। সফল খামারি নাজমার এখন আবার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে নানামুখী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।