উন্নত পদ্ধতিতে পেঁপে চাষ

উন্নত পদ্ধতিতে পেঁপে চাষ

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপের চাষ করা হয়। পুষ্টিমানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এ ফল মানবদেহে রোগপ্রতিরোধে কাজ করে। পেঁপে স্বল্পমেয়াদি ফল, এর চাষের জন্য বেশি জায়গারও প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনায় দুই থেকে চারটি গাছ লাগালে তা থেকে সারা বছর ফল পাওয়া যায়।
পুষ্টিমান : পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ, বি, সি ও আয়রন বিদ্যমান। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য পাকা পেঁপেতে ৮৮.৪ ভাগ জলীয় অংশ, ০.৭ গ্রাম খনিজ, ০.৮ গ্রাম অাঁশ, ১.৯ গ্রাম আমিষ, ০.২ গ্রাম চর্বি, ৮.৩ গ্রাম শর্করা, ৩১.০ মিলিগ্রাম লৌহ, ০.০৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১, ০.০৩ মিলিগ্রাম বি-২, ৫৭.০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি, ৮১০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন ও ৪২ কিলোক্যালরি খাদ্য শক্তি রয়েছে।
ঔষধিগুণ : অজীর্ণ, কৃমি সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা, একজিমা, কিডনিসংক্রান্ত জটিলতা ডিপথেরিয়া, আন্ত্রিক ও পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রভৃতি রোগ নিরাময়ে কাঁচা পেঁপের পেপেইন ব্যবহার করা হয়। পেঁপের আঠা ও বীজ কৃমিনাশক প্লিহা যকৃতের জন্য উপকারী।
জাত : বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৯৯২ সালে শাহি নামের একটি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করে। জাতটির বৈশিষ্ট্য হলো- এটি একটি একলিঙ্গী জাত। গাছের উচ্চতা ১.৬ থেকে ২.০ মিটার। কা-ের খুব নিচু থেকে ফল ধরে। ফল ডিম্বাকৃতি এবং ওজন ৮০০ থেকে ১০০০ গ্রাম। ফলে প্রতি বীজের সংখ্যা ৫০০ থেকে ৫৫০টি। রঙ গাঢ় কমলা থেকে লাল। ফল বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। গাছপ্রতি ফলের সংখ্যা ৪০ থেকে ৬০টি।
জমি নির্বাচন ও তৈরি : পেঁপে গাছ মোটেও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তাই পেঁপের জন্য নির্বাচিত জমি হতে হবে জলাবদ্ধমুক্ত এবং সেচ সুবিধাযুক্ত। জমি বারবার চাষ ও মই দিয়ে উত্তমরূপে তৈরি করতে হবে। দ্রুত পানি নিষ্কাশের সুবিধার্থে বেড পদ্ধতি অবলম্বন করা উত্তম। পাশাপাশি দুইটি বেডের মধ্যে ৩০ সেন্টিমিটার চওড়া এবং ২০ সেন্টিমিটার গভীর নালা থাকবে। নালাসহ বেড দুই মিটার চওড়া এবং জমি অনুযায়ী লম্বা হবে।