পেঁপে চাষ পদ্ধতি

পেঁপে চাষ পদ্ধতি

পেঁপের বীজ বপন ও চারা রোপনের সময়ঃ
পৌষ (ডিসেম্বর – জানুয়ারি) এবং আশ্বিন (সেপ্টেম্বর – অক্টোবর) মাস পেঁপের বীজ বপনের উত্তম সময়। বপনের ৪০-৫০ দিন পর চারা রোপণের উপযোগী হয়।

চারা রোপনঃ
চারা লাগানোর পূর্বে গর্তের মাটি উলট-পালট করে নিতে হয়। প্রতি গর্তে ৩০ সেমি দূরত্বে ত্রিভ‍ূজ আকারে ৩টি করে চারা রোপন করতে হয়। বীজ তলায় উৎপাদিত চারার উন্মক্ত পাতা সমূহ রোপনের পূর্বে ফেলে দিলে রোপনকৃত চারার মৃত্যু হার কমবে এবং চারা দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হবে। পলিব্যাগে উৎপাদিত চারার ক্ষেত্রে পলিব্যাগটি খুব সাবধানে অপসারন করতে হবে যাতে মাটির বলটি ভেঙ্গে না যায়। পড়ন্ত বিকালে চারা রোপনের সর্বোত্তম সময়। রোপনের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে চারার গোড়া যেন বীজতলা বা পলিব্যাগে মাটির যতটা গভীরে ছিল তার চেয়ে গভীরে না যায়।

গাছে সার প্রয়োগঃ
ভাল ফলন পেতে হলে পেঁপেতে সময়মত সার প্রয়োগ করতে হবে। উপরি হিসেব গাছ প্রতি ৪৫০-৫০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৪৫০-৫০০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপনের ১ মাস পর হতে প্রতি মাসে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছে ফুল আসার পর এই মাত্রা দ্বিগুন করতে হবে। মাটিতে রস না থাকলে পানি সেচের ব্যবস্থা করা আবশ্যক।

পরিচর্যাঃ
পেঁপের জমি সবসময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। বর্ষা মৌসুমে আগাছা দমন করতে গিয়ে মাটি যাতে বেশি আলগা হয়ে না যায় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

পানি সেচ ও নিকাশঃ
শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সেচ দিতে হবে। সেচের ও বৃষ্টির পানি যাতে জমিতে জমে না থাকে সে জন্য পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করতে হবে।

অতিরিক্ত গাছ অপসারণঃ
চারা লাগানোর ৩-৪ মাস পর গাছে ফুল আসলে প্রতি গর্তে ১টি করে সুস্থ্য সবল স্ত্রী গাছ রেখে বাকী গুলো তুলে/কেটে ফেলতে হবে। তবে সুষ্ঠু পরাগায়ন ও ফল ধারনের জন্য বাগানের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে শতকরা ৫টি পুরুষ গাছ থাকা অপরিহার্য।

উন্নত পদ্ধতিতে পেঁপে চাষ

উন্নত পদ্ধতিতে পেঁপে চাষ

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপের চাষ করা হয়। পুষ্টিমানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এ ফল মানবদেহে রোগপ্রতিরোধে কাজ করে। পেঁপে স্বল্পমেয়াদি ফল, এর চাষের জন্য বেশি জায়গারও প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনায় দুই থেকে চারটি গাছ লাগালে তা থেকে সারা বছর ফল পাওয়া যায়।
পুষ্টিমান : পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ, বি, সি ও আয়রন বিদ্যমান। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য পাকা পেঁপেতে ৮৮.৪ ভাগ জলীয় অংশ, ০.৭ গ্রাম খনিজ, ০.৮ গ্রাম অাঁশ, ১.৯ গ্রাম আমিষ, ০.২ গ্রাম চর্বি, ৮.৩ গ্রাম শর্করা, ৩১.০ মিলিগ্রাম লৌহ, ০.০৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১, ০.০৩ মিলিগ্রাম বি-২, ৫৭.০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি, ৮১০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন ও ৪২ কিলোক্যালরি খাদ্য শক্তি রয়েছে।
ঔষধিগুণ : অজীর্ণ, কৃমি সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা, একজিমা, কিডনিসংক্রান্ত জটিলতা ডিপথেরিয়া, আন্ত্রিক ও পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রভৃতি রোগ নিরাময়ে কাঁচা পেঁপের পেপেইন ব্যবহার করা হয়। পেঁপের আঠা ও বীজ কৃমিনাশক প্লিহা যকৃতের জন্য উপকারী।
জাত : বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৯৯২ সালে শাহি নামের একটি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করে। জাতটির বৈশিষ্ট্য হলো- এটি একটি একলিঙ্গী জাত। গাছের উচ্চতা ১.৬ থেকে ২.০ মিটার। কা-ের খুব নিচু থেকে ফল ধরে। ফল ডিম্বাকৃতি এবং ওজন ৮০০ থেকে ১০০০ গ্রাম। ফলে প্রতি বীজের সংখ্যা ৫০০ থেকে ৫৫০টি। রঙ গাঢ় কমলা থেকে লাল। ফল বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। গাছপ্রতি ফলের সংখ্যা ৪০ থেকে ৬০টি।
জমি নির্বাচন ও তৈরি : পেঁপে গাছ মোটেও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তাই পেঁপের জন্য নির্বাচিত জমি হতে হবে জলাবদ্ধমুক্ত এবং সেচ সুবিধাযুক্ত। জমি বারবার চাষ ও মই দিয়ে উত্তমরূপে তৈরি করতে হবে। দ্রুত পানি নিষ্কাশের সুবিধার্থে বেড পদ্ধতি অবলম্বন করা উত্তম। পাশাপাশি দুইটি বেডের মধ্যে ৩০ সেন্টিমিটার চওড়া এবং ২০ সেন্টিমিটার গভীর নালা থাকবে। নালাসহ বেড দুই মিটার চওড়া এবং জমি অনুযায়ী লম্বা হবে।

'